হাড় ভাঙায় প্রাথমিক করণীয়

Discussions

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কত ধরনের সমস্যার মুখোমুখিই তো আমরা হই। আমাদের নিজেদের বা পরিবার পরিজন বা বন্ধুদের মধ্যে হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়ত আছে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে কি করা উচিত এই সম্পর্কে হয়ত অনেকেরই ধারণা নেই বা আংশিক ধারনা আছে। ফ্র্যাকচার ম্যানেজমেন্ট অর্থাৎ হাড় ভেঙে যাওয়ার পর প্রাথমিক করনীয় সম্পর্কে সাধারণ ধারণা আমাদের সবার থাকা উচিত।

ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙা বলতে আমরা মূলত হাড়ের ভেঙে যাওয়া কে বুঝে থাকি। তবে বোনস বা হাড় এর সাথে কার্টিলেজ বা তরুণাস্থির আঘাত বা ভেঙে যাওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত ট্রমা বা আঘাত যেমন, রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট, পড়ে যাওয়া, ফিজিক্যাল এসল্ট বা মারামারিতে ফ্র্যাকচার হয়ে থাকে। বয়স্ক রোগীদের অথবা অস্টীওপোরসিস/ হাড় ক্ষয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে ট্রিভিয়াল ট্রমা বা সামান্য আঘাতেও ফ্র্যাকচার হতে পারে। একজন ফ্র্যাকচার/ট্রমার রোগীকে চিকিৎসা প্রদান শুরু করতে হয় এডভান্সড ট্রমা লাইফ সাপোর্ট বা ATLS প্রটোকলের মাধ্যমে। এটিএলএস প্রটোকলের মাধ্যমে রোগীর প্রথমিক ম্যানেজমেন্ট করার পর রোগীকে এক্সরে করা হয়। সাধারণত অধিকাংশ ফ্র্যাকচার এক্সরের মাধ্যমে বোঝা যায়। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এম আর আই অথবা বোন স্ক্যান এর প্রয়োজন হতে পারে। ফ্র্যাকচার এর রোগীকে চিকিৎসা প্রদানের জন্য ফ্র্যাকচার টাইপিং বা ভেঙে যাওয়ার ধরণ নির্ধারন করতে হয়। প্রাথমিক ভাবে ফ্র্যাকচারকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমত, ওপেন ফ্র্যাকচার অর্থাৎ যেখানে হাড় ভেঙে চামড়ার বাইরে চলে আসে অথবা বাইরের সাথে ভাঙার সংযোগ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, ক্লোজড ফ্র্যাকচার অর্থাৎ যেখানে ভাঙা অংশের সাথে শরীরের বাইরের সংযোগ থাকে না।

ওপেন ফ্র্যাকচার সাধারণত মেজর ট্রমা যেমন রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট, ভারী ধারালো অস্ত্রের আঘাত, উঁচু থেকে পড়ে যাওয়া অথবা তীব্র শারীরিক আঘাতে হতে পারে। এখানে সাধারণত wound contamination থাকে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের সময়ই পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিষ্কার পানিতে আঘাতপ্রাপ্ত স্থান ধুয়ে ফেলতে হয়। ক্ষতের পরিমাণ এবং অবস্থা অনুয়ায়ী পরবর্তি চিকিৎসার প্ল্যান করা হয়। অল্প ক্ষত এবং কনটামিনেশনের ক্ষেত্রে প্রাইমারি ক্লোজার করা যেতে পারে এবং বোন ফিক্স করার জন্য এক্সটার্নাল ফিক্সেটর দেয়া যেতে পারে। ক্ষতের পরিমাণ যদি বড় হয় তাহলে সাধারণত এক্সটার্নাল ফিক্সেটর দিয়ে নিয়মিত ড্রেসিং এর মাধ্যমে ক্ষতের চিকিৎসা করা হয়। স্কিন ক্লোজ করা সম্ভব হলে এক্সটার্নাল ফিক্সেটর খুলে ইন্টার্নাল ফিক্সেশন করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে স্কিন ক্লোজারের জন্য স্কিন গ্রাফটিং বা ফ্ল্যাপ কাভারেজ প্রয়োজন হতে পারে।

ক্লোজড ফ্র্যাকচার এর ক্ষেত্রে রোগীর বয়স, ভেঙে যাওয়া হাড়ের অবস্থান, আঘাতের মেয়াদ, ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী চিকিৎসার প্ল্যান ঠিক করা হয়। প্রাথমিভাবে আক্রান্ত অঙ্গটিকে অচল করার জন্য প্লাস্টার করা হয়। পরবর্তিতে ধরন অনুযায়ী প্লাস্টার অথবা অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

মূলত হাড় ভেঙে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ, আক্রান্ত অঙ্গকে অচল করার জন্য প্লাস্টার করা, শক্ত সাপোর্ট দেয়া অথবা পায়ের ক্ষেত্রে দুই পা একসাথে করে বেধে দেয়া যেতে পারে।। কোন অবস্থাতেই অত্যন্ত শক্ত করে চটা বাধা কিংবা অনভিজ্ঞ হাতে টাইট প্লাস্টার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কবিরাজি করে চটা বাধা কিংবা অত্যন্ত শক্তভাবে প্লাস্টার করার ফলে আক্রান্ত অঙ্গের স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে হাত অথবা পা পচে যেতে পারে।

সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসক কিংবা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। অপচিকিৎসা থেকে দূরে থাকুন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।